দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাল্টিক সাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ থেকে ডেনমার্কের সামরিক হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে দুটি জরুরি সংকেত ফ্লেয়ার ছোড়ার অভিযোগ করেছে ডেনমার্ক। এ ঘটনায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটির সরকার।
ডেনমার্কের ভাষ্য, সোমবার একটি রুশ ফ্রিগেটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের সময় নিয়মিত নজরদারি অভিযানে তাদের একটি ফেনেক হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ফ্লেয়ার ছোড়া হয়। ডেনমার্কের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় গেদসারের কাছে রুশ ফ্রিগেটটির অবস্থান ছিল। ছোড়া দুটি ফ্লেয়ারের একটি হেলিকপ্টারটির খুব কাছ দিয়ে চলে যায়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে বেপরোয়া আখ্যা দিয়ে বলেন, এর উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখানো ও বিভাজন তৈরি করা।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন অভিযোগ করেন, রাশিয়া ধীরে ধীরে কোন আচরণকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে, তার সীমা সরিয়ে নিচ্ছে। এমন আচরণ ডেনমার্ক মেনে নিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে রাশিয়া ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন বলেন, মস্কো ঘটনার সব পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে। একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের হেলিকপ্টারকে রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছে উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক কৌশল করার অভিযোগ করেন।
বারবিন বলেন, রুশ যুদ্ধজাহাজের কাছে ডেনিশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের বিপজ্জনকভাবে চলাচলের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত বছরও একই ধরনের একটি ঘটনা নিয়ে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। সর্বশেষ ঘটনাটি দেখিয়েছে, যোগাযোগের সমস্যা রুশ নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর নয়, বরং ডেনমার্কের দিকেই রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন রাশিয়ার আচরণকে বেপরোয়া ও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। একই দিনে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় একটি ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনাটির সঙ্গে বাল্টিক অঞ্চলে রাশিয়ার আগ্রাসন ও উসকানির বৃহত্তর ধারাবাহিকতার যোগসূত্র রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোনটি পরে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। দেশটির কর্তৃপক্ষের ধারণা, মঙ্গলবার মধ্যরাতের কিছু পর প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে ড্রোনটি দক্ষিণ লিথুয়ানিয়ায় ঢোকে। তবে ড্রোনটির উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নওসেদা বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন বাড়তে থাকায় এ অঞ্চলের জন্য এমন প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে লিথুয়ানিয়া নিজেদের আকাশসীমা রক্ষা করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পোল্যান্ড জানিয়েছে, সোমবার রাতে তাদের আকাশসীমায় বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিশেষ তৎপরতা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ জেটচালিত ড্রোনের হামলার কারণে এই তৎপরতা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি। পোল্যান্ডের ভাষ্য, আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকায় প্রতিরক্ষা জোরদার করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
চলতি বছর এস্তোনিয়া ও লাটভিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর আকাশসীমায় ভুলবশত ঢুকে পড়া ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করতে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান একাধিকবার আকাশে উড়েছে। ইউক্রেন এসব বিচ্যুত ড্রোনের জন্য রাশিয়ার ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তিকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনীয় ড্রোনের গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/